1. adnantasinmonch@gmail.com : sahas24 : Ahsan Ullah
শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

শিক্ষার্থী আদনান তাসিন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন!

  • আপডেটের সময় রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৯
  • ২২২ জন দর্শন

মেধাবী ছাত্র আদনান তাসিন হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং  স্পিড ব্রেকারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন। “ব্যর্থতার দায় সিটি কর্পোরেশনকে নিতে হবে” -ইলিয়াস কাঞ্চন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখ বেলা ২টার সময় জোয়ার সাহারায় ঘাতক চালকের নির্মম প্রতিযোগিতার বলি হওয়া সেন্ট জোসেফ স্কুলের মেধাবী ছাত্র আদনান তাসিন হত্যার বিচার ও ৫ দফা দাবিতে ৩রা মার্চ ২০১৯, রবিবার বেলা ১১টায় শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে (আদনান চত্বর) জোয়ার সাহারা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর আয়োজনে ‘আদনান তাসিন মঞ্চ’ উদ্যোগে শোকসভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই’র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, নিরাপদ সড়ক চাই’র এস এম আজাদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেকিউটিভস এসোসিয়েশন এর এমদাদুল হক, শহীদ আদনান তাসিনের পিতা আহসান উল্লাহ টুটুল, শহীদ আদনান তাসিনের বড় ভাই আদনান সামিন।সভায় সংহতি প্রকাশ করেন নারীনেত্রী মিফতাহুল জান্নাত রহমান মনি। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন-নিসআ প্রতিনিধি, সড়কে হত্যাকাণ্ডের শিকার সাইফুলের ভাই নাজিম এবং এলাকাবাসীও বক্তব্য প্রদান করেন। গুলশান ডিগ্রি কলেজ, পাইওনিয়ার ডেন্টাল, বারিধারা স্কুল, নিউ লাইফ হাই স্কুল ও প্রাইম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক অংশ নেন

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘাতক চালককে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে কেন ওভারব্রিজ সরানো হল? তা পুনঃস্থাপন করতে হবে। জেব্রা ক্রসিংয়ের দুই পাশে স্পিডব্রেকার, ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা করতে হবে। সিগন্যাল লাইট, বাস স্টপেজ ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণ করতে হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া প্রাইম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুরুজ্জামান প্রিন্স বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না করে এখান থেকে ওভারব্রিজ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ কারণে একই স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা আদনান হত্যার বিচার চাই।

উই ওয়ান্ট জাস্টিস প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেয়া নিউ লাইফ হাই স্কুলের ৪র্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মো. তানভির হোসেন বলেন, আমরা নিরাপদ সড়ক চাই। স্কুল থেকে নিরাপদে বাসায় ফেরার নিশ্চয়তা চাই।

আদনানের বড় ভাই নরডেম ক্কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী আদনান সামিন বলেন, কোন অপরাধে আদনান তাসিন কে হত্যা করা হল? আমি আমার আদরের ছোট ভাই আদনান তাসিন হত্যার বিচার চাই, বিচারহিনতার কারণে অপরাধ প্রবনতা আরও বেড়ে যায়, আজ এক জনকে হত্যা করেছে কাল তারা আরেকজনকে হত্যা করবে?

আদনানের পিতা আহসান উল্লাহ টুটুল বলেন, জিপিএস ভাইরাসে আক্রান্ত পক্ষাঘাত হওয়ার পরও ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে প্রশাসনের দারে দারে ঘুরেছেন। দুর্ঘটনার ২০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও পুলিশ ঘাতক বাসচালককে আটক করতে পারেনি। আমি ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আর কোনো মেধাবী ছাত্র যেন আমার ছেলের মতো দুর্ঘটনার শিকার না হয় সেই দাবি জানাচ্ছি।

অনন্য দিনের মত ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সকালে ফজরের নামাজের আযানের সাথে সাথে ঘুম থেকে উঠে ফযরের নামাজ পড়ে, কোরআন তেলওয়াত , কলেজের উদ্দেশে যাত্রা করে, কিভাবে সেই অবুঝ শিশু বুঝবে এই যাওয়া শেষ যাওয়া, আদনান তাসিন সেন্ট জোসেফ কলেজ থেকে ফেরার পথে তাকে জেব্রা ক্রসিঙ্গের উপর ঢাকা বিমান বন্দর সড়ক শেওড়া বাস স্ট্যান্ড ( আদনান চত্বর) দ্রুতগামি ভ্রামনবারিয়ার উত্তরা পরিবহন তাকে শিক্ষার্থীর পোশাকে দেখে ক্রোধের বসে চাপা দিয়ে চলে যায়, উল্লেখ্য এই একি সড়কে রমিজুদ্দিন কলেজের দিয়া-করিম হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন হয়, তাই তারা শিক্ষার্থী দেখলেই আক্রোশ সৃষ্টি হয় বিভিন্ন অনেকেই প্রচার মাধ্যম প্রচার করে, “রাস্তা পারা পারে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার হন, আদনান তাসিন ত জেব্রা ক্রসিং দিয়ে পার পার হচ্ছিল”, জেব্রা ক্রসিং আছে কিন্তু সামনে পিছে স্পীড ব্রেকার নাই, কোন ত্রাফিক পুলিশ নাই, কোন সিগন্যাল নাই, আর কোন বিকল্প না রেখে এত ব্যাস্ত রাস্তায় ফুটওভার ব্রিজ কেন সরাল ? এলাকায় এত মানুষ , স্কুল কলেজ – ডিওএইচএস বারিধ্রায় হাজার হাজার অফিস, কেউ প্রতিবাদ করলনা।


মুমূর্ষু অব্যস্তায় এক পথচারী তাকে কুর্মিটোলায় নিল তারা তার চিকিৎসা করলোনা – বললো ঢাকা মেডিক্যালে নিতে হবে – এখানে দুর্ঘটনার রুগীর চিকিৎসা করেন না , যে সব হাসপাতাল মুমূর্ষু সড়কের মুমূর্ষু রোগী ধরেনা পুলিশি কেইস বলে, তারা কি মানুষ? আর সেই সব হাসপাতালের নামের সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেন! আমার নিস্পাপ সন্তানের বাঁচার জন্য তীব্র যন্ত্রনায় চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে – শিশুর চিৎকার কারো হৃদয়ে সামান্যতম নাড়া দেয়নি , প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে আমারা সন্তান আসতে দেরি দেখে আমারা ফোন করি, তখন তার এক সহপাঠী আমাদেরকে জানায়, তারা হাসপাতালে আদনানের হাঁটু ও কনুই ছিলে গেছে বাস থেকে নামতে গিয়ে, ইত্যাদি প্রায় দেড় ঘণ্টা আমার নিষ্পাপ সন্তান যুদ্ধ করে, পরে কুর্মিটোলা থেকে গলা ধাক্কা খেয়ে বিনা চিকিৎসায়, এম্বুলাঞ্চে নিয়ে,ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশে যাত্রা করে আমার আরেক- শিশু সন্তান -দীর্ঘ পথের জন্য তাকে অন্তত অক্সিজেন তো দিতে পারতো -বনানীতে দীর্ঘ জ্যাম, গাড়ির দীর্ঘ লাইন, আর কত যন্ত্রনা সইতে পারে এক শিশু ! – সর্বদাই হাসি খুশি থাকা টগবগে আমার শিশুটি চির তরে স্তব্দ হয়ে যায় – হটাৎ করে পৃথিবীর সকল বাতাস কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায় তার শোকে !

ঐদিকে মা তার জন্য ভাত প্লেটে দিয়ে অপেক্ষা করছে আদরের সন্তান এসে ভাত খাবে, মা কিভাবে জানে তার সন্তান বেওয়ারিশ হয়ে রাস্তায় মুখু থুবড়ে পড়ে আছে আর বাঁচতে চাই, বাঁচতে চাই বলে চিৎকার করছে,পানি পানি বলে চিৎকার করছে !পানি পানি বলে চিৎকার করছে !!

কোনো মিডিয়া তার মৃত্যুর খবর প্রচার হয়নি , কারণ, তাদের কলেজ বা সেই কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বার্থের আফিম খেয়ে সবাই চুপ, – যেন কোথাও কিছু হয়নি, তার মর্মান্তিক মৃত্যু তাদের মনে সামান্য দাগও কাটেনি , তারা নুন্নতম কোনো সহানুভুতি দেখাইনি, কোন শিক্ষার্থী ফোনও করেনি, কোন অভিভাবক কোনো সহানুভুতি দেখাইনি, কোন ফোনও করেনি, তারা কেউ প্রতিবাদ করেনি – বরং পর দিন কলেজ বন্ধ রাখে যাতে বিষয়টি নিয়ে বেশি জানা জানি না হয় – এবং পরদিন কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষার্থীরা গুজব ছড়িয়ে দেয় – ঘাতক ড্রাইভার হেলপার ধরা পড়েছে – যাতে করে বাহিরের কোনো কলেজের শিক্ষার্থী এই মর্মান্তিক হত্যার বিচারে রাস্তায় না নামে , হয়তো কলেজ চেয়েছিল , নিজেরা প্রতিবাদ করবে না অন্যরা যেন না করে, আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে সেন্ট জোসেফ কলেজে যাই প্রিন্সিপ্যালের সাথে কথা বলতে, কিন্তু দেখা পেলাম না, পরে টেলিফোন তাকে সবিনয়ে অনুরধ করি, থানায় একটু ফোন করে আসামিকে ধরার জন্য বলতে , তিনি সরাসরি আমার আনুরধ প্রত্যাখ্যান করেন, অথচ আমার সন্তানকে যখন হত্যা করা হয় হয় তখনোও সে বুকে ঝুলিয়ে রেখেছিল সেই কলেজের আইডিকার্ড, শরীরে জড়িয়ে ছিল কলেজ ইউনিফরম, আর সে বারিধারা স্কলারস এ ১৩ বছর অধায়ন করেছে তার প্রিন্সিপ্যাল এর সাথে দেখা করে তাকে অনুরধ করি, থানায় একটু ফোন করে আসামিকে ধরার জন্য বলতে , তিনি সরাসরি আমার আনুরধ প্রত্যাখ্যান করেন, অথচ তার ১৭ বছর জীবনের ১৩ বছরেই কাটে এই প্রতিষ্ঠানে, এই ১৩ বছরে এই প্রতিষ্ঠানে তার অনেক সাফল্য , মেডেল , ট্রফি , সার্টিফিকেট,

এত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজ আদানান তাসিনের হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ করছে কিন্তু তারা কেউ কোনদিন আদনান তাসিন কে দেখেনি, চিনেও না – অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রিন্সিপাল রহস্যজনক ভুমিকায়, কেউ কোন প্রতিবাদ করলনা- বিচার দাবীও করলনা , আমি আমার নিস্পাপ সন্তান হত্যার বিচার চাই, ঘাতকের ফাঁসি চাই।

শোকাহত এলাকাবাসীর এই সভায় একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, “এখানে পথচারী পারাপারের জন্য নির্ধারিত ফুটওভার ব্রিজটি সিটি কর্পোরেশন সংস্কারের নামে বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরিয়ে ফেলে।  ফলে ব্যস্ত এ সড়কে মৃত্যুর মিছিলের দায়ভার সিটি কর্পোরেশন এড়িয়ে যেতে পারেনা।” তিনি ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহবান জানান।

মানব্বন্ধনের কিছু মুহূর্ত

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 Sahas24.com
Desing & Developed BY ServerNeed.com