1. adnantasinmonch@gmail.com : sahas24 : Ahsan Ullah
শনিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২০, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন

আন্দোলন বনাম জামাইআদর সমাদর !

  • আপডেটের সময় শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮৮ জন দর্শন

সম্প্রীতি কিছু সংখ্যক সন্ত্রাসী সড়কে নেমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে – সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, নারীদের লাঞ্ছিত করে, পিএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা দেয়, মুমূর্ষু রোগীবাহী এম্বুলেঞ্চ চলতে দেয়নি- পুরো সড়ক জুড়ে মাত্র গুটি কয়েক #ঘাতক ত্রাস ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে – তার সাধারন পথচারী গাড়ির চালককে পোড়া মবিল মুখে মেখে দেয় – কিন্তু প্রশাসন তাদেরকে বারনো করেননি – বাধাও দেননি, পুর বিশ্ব মিডিয়ার তা দেখে অবাক – বিস্মিত !! যেখানে আইন আছে নারীদের লাঞ্ছনা করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হবার কথা – সাধারন মানুষের চলা চলে বাধা দিলে তা অপরাধ, তারা আসলে কে কি তাদের উদ্দেশ্য ? (১) তারা যদি কোন চালক হত বা কোন চালকের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে রাস্তায় নেমে থাকে – তারা যাই করুক অন্তত কোন চালকের গায়ে হাত উঠাতো না কোন চালককে নাজেহাল করত না – কোন চালককে অপমানিত করত না – চালকের মুখে পোড়া মবিল লাগাত না ! তারা মানে তারা কেউ চালক নয়!! (২) তারা যদি স্বাভাবিক হত তবে অন্তত মুমূর্ষু রোগীবাহী এম্বুলেঞ্চ আটকাত না – তার মানে তারা স্বাভাবিক ছিলনা – তারা নেশা গ্রস্ত ছিল (৩) তারা কেউ মানুষ ছিলনা – কারন তারা শিশুদের উপর নির্যাতন চালায় তাদেরকে স্কুলে যেতে বাধা দেয় – শিশুদের কে ভয় দেখায় আতংকগ্রস্থ করে (৪) তারা বখাটে ছিল বলে তারা স্কুল কলেজের মেয়েদের – নারীদের লাঞ্ছিত্ত করে (৫) তারা কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই নেমেছিল তাই তারা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কিংবদন্তী ইলিয়াস কাঞ্চনের পোস্টার বানিয়ে ব্যাঙ্গ করে – এমন কোন নাই যা গুটি কয়েক #ঘাতক সন্ত্রাসী প্রধান সড়কে করেনি- প্রশ্ন আসতেই পারে দেশে কি কোন আইন শৃঙ্খলা কোন বাহিনী, প্রশাসন সবাই কথায় ছিল? এই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন খোদ জধানীতে শিক্ষকের আন্দোলনের উপর প্যপ্যার স্প্রেও ছোড়ে, সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলন ও তেল গ্যাস বন্দর রক্ষা আন্দোলনের মিছিলে মারমুখী আচরন ও কোন কোন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এর সাদা পতাকা মিছিল – মানব্বন্ধন পর্যন্ত পণ্ড করে দেয়া হয়- সর্বশষ রাজধানীর রমিজ উদ্দিন শিক্ষার্থী দিয়া করিম হত্যা আন্দোলনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, হেমলেট বাহিনী – সন্ত্রাসী হামলা – তার উপর শতশত মামলা – গ্রেফতার নির্যাতন ,যার ফলে সংস্কার হয় “সড়ক আইন” – যা তৈরি হয় ২০১৮ সালে – তখন কিন্তু কোন আন্দোলন হয়নি , পরে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে আইন কার্যকরের ঘোষণা আসার পরপরই “পরিবহন মেইল সমিতি” আইনটির জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান, এই আইনের বিপক্ষে কোন আন্দোলন কোন ধর্মঘট ঘোষিত হয়নি – আপত্তিও কেউ তোলেনি তথাপি সরকার তা ৭ দিনের জন্য স্থগিত করেন, পরে ঘোষিত হয় ১৭ই নভেম্বর থেকে “সংস্কারকৃত সড়ক আইন” কার্যকর করা হবে – যা সংস্কার হয় ২০১৮ তে আর ১লা নভেম্বর কার্যকরের কথা থাকলেও কোন আন্দোলন ধর্মঘট ঘোষিত হয়নি – হটাত কি এমন হল – যার জন্য কিছু সন্ত্রাসী রাস্তায় নেমে নৈরাজ্য সন্ত্রাসী তৎপরতা চালাল বিনা বাধায় ? কে তারা? কি তাদের দাবি?
এরা ধর্মঘট হরতাল করলেই সরকারকে পিছু হটতে দেখি সব সময়েই – সরকার কি আসলেই ধর্মঘট হরতালে ভীত ? কখনইনা যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের রায় ও জাতিরজনক হত্যা মামলার রায় কার্যকর করতে গিয়ে তো অনেক ধর্মঘট হরতাল সরকার খুব দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে , তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশের সকল বিরোধী দল লাগাতার আন্দোলন করলেও সরকার খুব দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে, দেশে জঙ্গি উথান হলে সরকার খুব দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করে, কিন্তু গুটি কয়েক সন্ত্রাসী মহাসড়কে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলো আর রাস্ত্র – সরকার – প্রসাসন সবাই চুপ !!
আগেই বলেছি তারা চালক নয় বাঁ চালকদের পক্ষে বাঁ চালকদের স্বার্থের পক্ষে কথা বলতেও আসেনি তবে ? ৩৮ লাখ চালকের মধ্যে ২০ লাখ চালকই লাইসেন্স বিহীন আর বাকিদের ৩৫% লাইসেন্স নকল ! প্রতিদিন বাসে দেখবেন চালক হটাত তার ড্রাইভিং সীটে অন্য একজনকে দিয়ে তিনি যাত্রির আসনে বসে , এই অন্য একজন সেই ড্রাইভারকে এর জন্য টাকা দেয় – আর মালিকরা কম দামে পায় বলে এইসব লাইসেন্স বিহীন চালকদেরকে বাসের দায়িত্ব দেয়, আর মালিকরা প্রতিদেনের জন্য তাদেরকে টার্গেট দেয় – এই টার্গেট পূর্ণ করতে না পারলে পরদিন গাড়ী তাকে দিবে না, তাই এরা সড়কে নেমে জানপ্রান দিয়ে বাস চালায় – ৩ টিপের জায়গায় ৪/৫ টিপ – কে মরল আর কে বাঁচল তা দেখার সময় কৈ ? আর আইন সেটা তো আছে এবং ছিল কিন্তু প্রয়োগ কি হয় না – প্রতিদিন গড়ে ৬৪ জন কে সড়কে হত্যা করা হয় কিন্তু একজন কেও কি ধরা হয় – বেতিক্রম আব্রার হত্যা আন্দোলন ও আব্রারের পিতা সামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা বলে হত্যা কারিকে ধরা হয়েছে কিন্তু শত শত হাজার হাজার হত্যা কাণ্ডেধরা হয় ২/১ জন কে – সেন্টজোসেফের মেধাবী শিক্ষার্থী আদনান তাসিন কে জেব্রা ক্রসিঙ্গের উপর তাকে শিক্ষার্থীর পোশাকে রাস্তা পার হতে দেখে ক্রোধের বশে তাকে হত্যা করে – হত্যা কারি এখনও মহাখালী বাস স্ট্যান্ডে বাস চালাচ্ছেন ! কিন্তু পুলিশ তাকে ধরছেন না – পুলিশ হত্যাকারীদের প্রধানত ৩ টি কারনে ধরে না (১) আন্দোলনের ভয়ে (২) মেনেজ হয়ে যাওয়া (৩) ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার টাকা , ক্ষমতা না থাকা হত্যাকারীদের ধরলেই শুরু হবে আন্দোলন – আর আন্দোলনের সময়ে আন্দোলনকারি সন্ত্রাসীরা থাকেন জামাই আদরে !! এই যদি হয় তবে কি দরকার নুতুন নুতুন আন্দোলন – যদি তাদেরকে ধরতে বারন থাকে ?
সড়কে হত্যা কাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়া উচিৎ কারন এই দেশে এই হত্যাকারী ঘাতকদের বিচার করার ইচ্ছা পোষণ করেন না – এই দেশে যত কঠিন আইনই করা হোক তা ইহও কালেও প্রয়োগ হবে না !! সড়কের ঘাতকরা সবসময়েই জামাই আদরে ছিলেন ও থাকবেন !!

আহসান উল্লাহ টুটুল-আহবায়ক
সড়কে স্বজনহারা অভিভাবক ফোরাম

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 Sahas24.com
Desing & Developed BY ServerNeed.com