1. adnantasinmonch@gmail.com : sahas24 : Ahsan Ullah
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

পৃথিবীর সবচেয়ে ৫ ভয়ংকর প্রাণী তারা! জানলে অবাক হবেন

  • আপডেটের সময় সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৬ জন দর্শন

হিংস্র প্রাণীর কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে উঠে আসে বাঘ-সিংহের কথা। কিন্তু বাস্তবে পৃথিবীর প্রথম পাঁচ হিংস্র প্রাণীর তালিকায় কিন্তু তারা নেই, যারা আছে তাদের নাম রীতিমতো অবাক করে দেওয়া।

সাত-সাতটি মহাদেশ রয়েছে পৃথিবীতে। রয়েছে অতলান্ত সমুদ্র, মহাসাগর, রয়েছে অজানা অরণ্যের ইতিকথা। সেখানে কত জানা-অজানা জীবের বাস, কত কিছু, তার কতটুকুই বা আমরা জানি? পৃথিবীতে কত সংখ্যক প্রাণী যে রয়েছে, তার সামান্যটুকুও হয়ত আমরা জেনে উঠতে পারিনি। যতটুকু জানতে পেরেছি, তাদের কেউ হয়ত অতি সাধারণ তৃণভোজী, কেউ আবার মাংসাশী, কেউ বা মারাত্মক হিংস্র। আর হিংস্র প্রাণীর কথা বললেই আমাদের চোখের সামনে উঠে আসে বাঘ-সিংহ জাতীয় প্রাণীর কথা। কিন্তু সত্যিই কি তাই? বাঘ-সিংহের মতো প্রাণীরাই কি এই বিশ্বের হিংস্র প্রাণীদের তালিকায় শীর্ষে? বাস্তব কিন্তু তা বলছে না, বরং পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র পাঁচ প্রাণীর তালিকা দেখলে চমকে ও অবাক হয়ে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। অনেকেই হয়ত জেনে বলবেন, এমনও কি সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। পৃথিবীর সবচেয়ে পাঁচ হিংস্র প্রাণীর তালিকা রইল, জানুন আর অবাক হোন, আর হ্যাঁ অতি অবশ্যই সাবধানে থাকুন।

প্রাণঘাতী সৌন্দর্যের সেই প্রাণী

সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী অন্য কেউ নয়, অস্ট্রেলিয়ান বক্স জেলিফিশ! কী এই বক্স জেলিফিশ? বক্স জেলিফিশ হল সেই প্রাণী, যা সম্ভবত জেলিফিশের সকল প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে। অসাধারণ তার রূপ, ঠিক যেন অনেকটা স্বচ্ছ পর্দার মত। সামুদ্রিক এই প্রাণীটি প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সেই প্রাণীই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এক একটি জেলিফিশে যে পরিমান বিষ থাকে, তাতে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বক্স জেলিফিশের বিষ আক্রন্তের হৃৎপিন্ড, স্নায়ুতন্ত্র ও ত্বকের কোষকে আক্রমণ করে। জলে সাঁতার কাটতে কাটতে একে ধরে একটু আদর করবেন ভাবছেন? ভুলেও সেটা করতে যাবেন না। সাধারণ একটা জেলিফিশের টেন্টাকল বা কর্ষিকার কাঁটার খোঁচা ত্বকে লাগলে চুলকানির মতো ত্বকের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু বক্স জেলিফিশের একটি খোঁচা খেলে আপনার মৃত্যু হবে তিন মিনিটের মাথায়। ফিলিপাইনে প্রতি বছর ২০-৪০ জন মানুষ মারা যান এই বক্স জেলিফিশের কারণে।

মার্বেল করা দেহ, জীবন কিন্তু কেড়ে নেয়

শামুক তো আমরা পথে-ঘাটে, বাড়িতে হামেশাই দেখে থাকি। তাই মনে হতেই পারে, এ আর এমন কী ব্যাপার। এমনকী শামুকও যে হয়ে উঠতে পারে মারাত্মক বিষাক্ত, তা আন্দাজ করাও কঠিন। আসলে সাধারণ শামুক কিন্তু বিষাক্ত নয়, কিন্তু যে শামুকগুলো কোণ সেগুলো ভয়ানক বিষাক্ত হয়ে থাকে। কোণ শামুক দেখতে কোণ আইসক্রিমের মতোই। কোণ শামুক মানেই বিষাক্ত, কিন্তু মার্বেল কোণ শামুক পৃথিবীর বিষাক্ত প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে দু নম্বরে। এদের খোলসটা দেখলে মনে হয়, মার্বেল পাথর দিয়ে মোজাইক করা হয়েছে। তাই এই শামুকের এমন অদ্ভূত নাম দেওয়া হয়েছে। মূলত অস্ট্রেলিয়ার গরম লবণাক্ত সামুদ্রিক জলে এদের দেখা মেলে। দেখতে যতই সুন্দর হোক, প্রাণীটি কিন্তু মারাত্মক প্রাণঘাতী।

তা সে যতই কালো হোক…মৃত্যু অনিবার্য

সাপ দেখলে আমরা কে না ভয় পাই! কিন্তু সব সাপ যেমন বিষাক্ত নয়, আবার এমন সাপও রয়েছে যা ভাবনারও অতীত। পৃথিবীর দ্রুততম, মারাত্মক বিষধর সাপের ব্ল্যাক মামবা। এরা যতটা মারাত্মক হিংস্র, ততটাই ভীতু। এরা তখনই প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বসে, যখন এরা মারাত্মক ভয় পায়। আফ্রিকার পুরানে এদের নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে। সেই কারণেই ব্ল্যাক মামবাকে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী সাপ মনে করা হয়। দক্ষিণ ও পূর্ব আফ্রিকার পাহাড়ি অঞ্চলে ব্ল্যাক মামবার আসল বাস। এটা আফ্রিকার দীর্ঘতম সাপ, যা লম্বায় গড়ে ৮.২ ফুটেরও (২.৫ মিটার) বেশি হয়ে থাকে। অবশ্য ১৮ফুট (৪.৫ মিটার) লম্বা ব্ল্যাক মামবারও দেখা মিলেছে। এদের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ২০ কিলোমিটার। ব্ল্যাক মামবার একবার কামড়েই মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারে একটি হাতিরও। পৃথিবীর ভয়ঙ্কর প্রাণীদের মধ্যে ব্ল্যাক মামবা রয়েছে তৃতীয় স্থানে।

ওজন যেমন, হিংস্রও তেমন…

দেখে মনে পারে একেবারে নিরীহ, তৃণভূমিতে ঘুরে বেড়ানো প্রাণী, এ আর এমন কী। কিন্তু কেপ বাফেলো নামের যে বুনো মহিষ আফ্রিকার তৃণভূমিতে রাজত্ব করে, তারা কিন্তু সাক্ষাৎ যমদূত! এক-একটি কেপ বাফেলোর ওজন কয়েক টন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের শক্তি এদের শরীরের ওজন এবং বদ মেজাজ। এদের কেউ উত্যক্ত করলেই তার আর রক্ষে নেই! বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এদের স্মৃতি শক্তি মারাত্মক প্রখর। শোনা যায়, একবার এক দল শিকারি একটি বন মহিষকে গুলি করলে সেই গুলি গিয়ে লাগে মহিষের পাঁজরে। সেই মহিষটি সঙ্গেসঙ্গেই পালিয়ে যায়। কিন্তু যে তাকে গুলি করেছিল, পরে ফিরে এসে তাকে মেরে ফেলে মহিষটি। মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক এক প্রাণী বলে এদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আফ্রিকান সিংহের কথা বলা হয় বটে, কিন্তু ভয়ংকর প্রাণী হিসেবে এরা সিংহের অনেক আগে রয়েছে।

দেখতে যত ছোট, ক্ষমতা যেন বড়

কোন দিন ভেবেছেন পিঁপড়েও প্রাণঘাতী হতে পারে? না ভেবে থাকলে এবার ভাবুন। সাইফু পিঁপড়ে নামে এক ধরনের পিঁপড়ে রয়েছে, এদেরকে ড্রাইভার পিঁপড়েও বলা হয় থাকে। এরা কিন্তু একলা নয়, বরং সবসময়ই ঝাঁকে-ঝাঁকে চলাফেরা করে থাকে। আর প্রতিটি ঝাঁকে থাকে প্রায় ৫ কোটি পিঁপড়ে। আজ থেকে নয়, প্রায় ৭ কোটি বছর আগেও পৃথিবীতে এই ধরনের পিঁপড়ের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। মূলত দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে এদের খুঁজে পাওয়া যায়। আমাদের বাড়ির পিঁপড়েকে যেমন আমরা চিনি বা যে কোনও খাবার নিয়ে সারি দিয়ে চলে যেতে দেখি, এরা কিন্তু তা নয়। বরং এরা মারাত্মক হারে মাংসাশী। এমনকী কয়েক কোটি পিঁপড়ে মিলে যে কোন বড় প্রাণীকেও এরা সাবাড় করে ফেলে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 Sahas24.com
Desing & Developed BY ServerNeed.com